প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 6, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 6, 2026 ইং
নওগাঁ শহরের এআই-সংযুক্ত সিসিটিভির সুফল

নওগাঁ শহরের এআই-সংযুক্ত সিসিটিভির সুফল: পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে যশোরে ডিবির অভিযানে স্বর্ণ ছিনতাই চক্রের সদস্য গ্রেফতার, ব্যবহৃত মাইক্রোবাস জব্দ
নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি মোঃ রাফি হোসেন
নওগাঁ শহরে জেলা পুলিশের স্থাপিত এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকারিতা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং আন্তঃজেলা সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে স্বর্ণ ছিনতাই চক্রের এক সদস্যকে যশোর থেকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। একই সঙ্গে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসও জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানতে পারেন যে, স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালের কাছ থেকে নওগাঁ শহরের তাজের মোড় এলাকায় একটি মাইক্রোবাস ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র তার গতিরোধ করে স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ সুপার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ ও বহির্গমন পথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে যানবাহনে বিশেষ তল্লাশি শুরু করা হয়।
ঘটনার পর নওগাঁ সদর থানায় মামলা দায়ের হলে পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জের নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে নওগাঁ শহরে সদ্য স্থাপিত এআই-সংযুক্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্যামেরার তথ্য, ডিজিটাল ডাটা বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জেলার টোল প্লাজার তথ্য পর্যালোচনা করে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত ৩ আগস্ট থেকে টানা বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় যশোরের কোতোয়ালি এলাকা থেকে ছিনতাই চক্রের অন্যতম সদস্য ও মাইক্রোবাস চালক মো. জামাল হোসেন ফুলনকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত কালো রঙের মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত জামাল হোসেন ফুলন জানান, চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তারা ঢাকা থেকে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুভাষ পালকে অনুসরণ করে নওগাঁ পর্যন্ত আসে। ভুক্তভোগী সুভাষ পাল ঢাকার কল্যাণপুর থেকে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসে নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হলে চক্রটি তাদের কালো মাইক্রোবাসে বাসটিকে অনুসরণ করতে থাকে। বগুড়া হয়ে নওগাঁ পৌঁছানোর পর ভুক্তভোগী ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস থেকে নেমে তাজের মোড়ে পৌঁছালে তার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে আনুমানিক ১৪ ভরি স্বর্ণ ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ের পরপরই শহরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি জোরদার করা হলে চক্রের সদস্যরা আলাদা আলাদা হয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
এদিকে গ্রেফতারকৃত জামাল হোসেন ফুলন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার এবং ছিনতাইকৃত স্বর্ণ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে তদন্ত এগিয়ে চলছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পুলিশ।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪